বিশেষ সংবাদদাতা, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা): কেরানীগঞ্জের জান্নাতবাগ এলাকায় এক কুখ্যাত ভূমিদস্যুর আগ্রাসনে উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন অশীতিপর বৃদ্ধ এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বহু বছরের তিল তিল করে গড়া নিজের বসতবাড়িটি রক্ষায় এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এই প্রবীণ নাগরিক। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে কলাতিয়া মৌজার ঘাটারচর (বর্তমান জান্নাতবাগ) এলাকায় ‘আহম্মদপুর হাউজিং প্রকল্পের’ আওতায় ৪ কাঠা (৬.৫০ শতক) জমি ক্রয় করেন উক্ত শিক্ষক। ২০০৪ সালে তিনি সেখানে টিনশেড ঘর তুলে ভাড়া দেন। ২০০৭ সালে তার প্লটের ঠিক পেছনে মহিউদ্দিন আহমদ নামে জনৈক ব্যক্তি ”মহিউদ্দিন ইঞ্জিনিয়ারিং” নামে একটি ছোট ফ্যাক্টরি স্থাপন করেন। সেই সময় ফ্যাক্টরির যাতায়াতের পথ বের করতে শিক্ষকের রান্নাঘর ও টিউবওয়েল ভাঙা হলেও প্রতিবেশীর সুবিধা ও শান্তি বজায় রাখতে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি।
২০১৪ সালে শিক্ষক মহোদয় নিজের একতলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। নির্মাণের সময় উক্ত মহিউদ্দিন তাকে পানি সরবরাহসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আস্থা অর্জন করেন। কিন্তু ২০২২ সালের আগস্ট মাসে মহিউদ্দিনের আসল রূপ প্রকাশ পায়। একটি বিশাল হাউজিং প্রকল্প করার অজুহাতে তিনি শিক্ষককে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার প্রসাতাব দেন। বিনিময়ে ফ্ল্যাট বা ৩ কোটি টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। শিক্ষক তার পৈতৃক ভিটার মায়া ছাড়তে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় অমানুষিক মববাজি ও হুমকি।
মহিউদ্দিন দাবি করছেন, শিক্ষকের জমির কিছু অংশ নাকি তার। অথচ তিনি জমি কিনেছেন শিক্ষকের ক্রয়ের ১১-১২ বছর পর। এই অযৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষক তাকে আদালতের শরণাপন্ন হতে বললেও মহিউদ্দিন পেশিশক্তি ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছেন। এ পর্যন্ত একাধিকবার সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে:
১. জিডি নং-১৭২২ (২৮/০৮/২০২২ইং)
২. জিডি নং-২২৩০ (৩১/১২/২০২৫ইং)
সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী শিক্ষকের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে চূড়ান্ত হুমকি প্রদান করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিউদ্দিন রহস্যজনকভাবে আশপাশের বেশ কিছু প্লট দখল ও ক্রয় করে বর্তমানে ওই এলাকায় এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। এরপরও গত ২০ ফেব্রুয়ারী পুণ:রয় নতুনভাবে সন্ত্রাসীদের আগমন ঘটে। এবং থানায় অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বলে। পুলিশের ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ আসে কিন্ত ততক্ষনে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। একজন নিরীহ শিক্ষকের ওপর এই ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। জীবনের সবটুকু সঞ্চয় দিয়ে এই বাড়িটি করেছি। এখন এই বয়সে এসে আমি কোথায় যাব? আমি সরকারের কাছে ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।”